মাসিকের ব্যথায় কী করা উচিত!





মাসিক প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত মাসিক সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ।
তবে মাসিক শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর পর্যন্ত চক্র নিয়মিত হয় না। এর ফলে কারো কারো মাসিকের সময় অসহনীয় ব্যথাবোধ হতে পারে।
বিশেষত কিশোরী মেয়েদের প্রায়ই মাসিকের ব্যথায় ভুগতে হয়। এই ব্যথার কারণে প্রায়ই অল্পবয়সী মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না, খেলাধুলা করতে পারে না, তাদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা ব্যহত হয়।
মাসিকের ব্যথা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। কিন্তু এ ছাড়াও কিছু কিছু নিয়ম কানুন ও খাদ্যাভ্যাস এই ব্যথার উপশমে ভালো ফল দেয়।
মাসিকের সময় উপকারী কিছু পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো

হাঁটা
হাঁটাহাঁটি সবার জন্যই একটি ভালো ব্যায়াম। তবে মাসিকের সময় তা বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। হাঁটার ফলে তলপেট ও উরুর মাংসপেশীর সংকোচন প্রসারণ হয়। এর ফলে মাসিকের রক্তপাত সহজ হয় ও যন্ত্রণা কমে আসে।

গরম সেঁক
মাসিকের ব্যথায় তলপেটে গরম সেঁক অত্যন্ত কার্যকর। গরম সেঁক সবচেয়ে ভালো হয় হট ওয়াটার ব্যাগ দিয়ে। এ ছাড়াও কাঁচের বোতলে গরম পানি নিয়ে গামছা বা পাতলা কাপড় দিয়ে মুড়িয়েও সেঁক দেওয়া যেতে পারে।

যোগাসন
যোগ ব্যায়াম বা যোগাসন মাসিকের ব্যথা উপশম করতে পারে। তবে সব আসন মাসিকের ব্যথার প্রতিকার করে না। এ সময় নির্দিষ্ট কিছু আসন করা উচিত। যেমন, ভদ্রাসন, ভুজঙ্গ আসন ইত্যাদি। অর্থাৎ যে সকল আসনে তলপেট ও কোমরের পেশীর সংকোচন প্রসারণ ঘটে, সেই আসনগুলো মাসিকের ব্যথায় উপকারী।

খাদ্যাভ্যাস
মাসিকের সময় ব্যথা কমাতে পারে বেশ কিছু খাবার। যেমন-
• আদাপানি
আদা দিয়ে পানি ফুটিয়ে সেই পানি কুসুম গরম করে পান করলে মাসিকের ব্যথা অনেকাংশে কমে আসে।

• গরম দুধ
গরম বা কুসুম গরম দুধ মাসিকের ব্যথায় ফল দেয়। এতে শুধু ব্যথাই কমে না, মাসিকের রক্তপাতে দুর্বল হয়ে আসা শরীরে বাড়তি পুষ্টিও যোগ করে দুধ।

• কলা
মাসিকের সময় প্রচুর রক্তপাত হয় বলে শরীরে আয়রনের অভাব ঘটে। কলায় প্রচুর আয়রন থাকায় তা আয়রনের অভাব পূরণ করে ও ব্যথার উপশম করতে পারে।
• আনারস
অনেকের মনেই এমন ধারণা রয়েছে যে মাসিকের সময় টক ফল খাওয়া ক্ষতিকর। এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। অনেক ফলই মাসিকের সময় খাওয়া যায়। বিশেষত আনারস মাসিকের ব্যথা কমাতে পারে।