স্কুলে মাসিক হলে…!





মাসিক একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। প্রতিটি সুস্থ স্বাভাবিক নারীর প্রতি মাসে মাসিক হয়।
চান্দ্র মাসের সঙ্গে একটি প্রাকৃতিক সম্পর্ক আছে বলেই একে মাসিক বলা হয়। মাসিক নিয়ে ভয়ভীতি বা লজ্জার কিছু নেই। কিন্তু অপ্রস্তুত অবস্থায় মাসিক শুরু হয়ে গেলে অনেক সময় খানিকটা অস্বস্তিতে পড়তে হয় বটে।
যেমন ধরা যাক স্কুলে, ক্লাস চলাকালীন সময়ে কারো মাসিক শুরু হয়ে যেতে পারে। স্কুলগামী কিশোরী মেয়েদের ক্ষেত্রে এমনটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কেননা, প্রথম মাসিক শুরুর পর প্রায় বছর দুয়েক পর্যন্ত মাসিক নিয়মিত না-ও হতে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় ২৮ বা ৩০ দিনে মাসিক চক্র ভাঙছে না, হয়তো এই সময়সীমার আগে বা পরে হয়ে যাচ্ছে। তাই স্কুলে মাসিক শুরু হওয়ার একটা ঝুঁকি থেকেই যায়।
এমন সম্ভাবনা বা আশঙ্কা থাকলে কিছু কিছু বিষয়ে মনযোগী হওয়া যেতে পারে। যেমন-
– স্কুলব্যাগে বাড়তি একটি বা দুইটি প্যাড অথবা পরিষ্কার গামছা রেখে দেওয়া যেতে পারে।

– ক্লাসে শুরু হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে বিষয়টি জানানো যায়। এতে লজ্জা বা সঙ্কোচের কিছু নেই।

– স্কুলে মাসিকবান্ধব বাথরুম না থাকলে সহপাঠীরা মিলে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে আবেদন জানানো যেতে পারে। প্রয়োজনে কয়েক ক্লাসের ছাত্রীরা মিলে আলোচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

যেহেতু মাসিক প্রতি মাসেই হয় এবং ব্যক্তি বিশেষে পাঁচ থেকে সাতদিন পর্যন্ত রক্তস্রাব স্থায়ী হয়। ফলে, এই কারণে স্কুলে যাওয়া বন্ধ রেখে পড়ালেখার ক্ষতি করার কোন অর্থ হয় না। তাতে সহপাঠীদের চেয়ে পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে যা পরবর্তীতে মানসিক অবসাদের কারণ হতে পারে।
তাই, স্কুলে হঠাৎ করে মাসিক শুরু হয়ে গেলে যেন বিপদে পড়তে না হয় সেজন্যে সবারই উচিত উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। তাতে নিজের ও সকলের জন্য সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।